গর্ভাবস্থায় চালতা খাওয়ার অসাধারণ ৮টি উপকারিতা
প্রিয় বন্ধুরা, আপনারা কি জানতে চাচ্ছেন গর্ভাবস্থায় চালতা খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা কি কি, এছাড়াও খাওয়ার নিয়ম বা কিভাবে খেতে হয় সে সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য। সুতরাং চলুন এই পোষ্টের মাধ্যমে আমরা জেনে নেই উক্ত বিষয় সম্পর্কে সকল অজানা বিষয়।
![]() |
গর্ভাবস্থায় চালতা খাওয়ার উপকারিতা |
চালতা গর্ভাবস্থায় অত্যন্ত উপকারী একটি ফল যা আমাদের অনেকের অজানা। চালতা ফলের উপকারিতা, অপকারিতা এবং ফর সঠিক নিয়ম না জানা সত্ত্বেও অনেকেই চালতা বা চালতার আচার খেয়ে থাকি। শুধু চালতা নয় গর্ভাবস্থায় ভাতের মাড় খাওয়ার উপকারিতাও ব্যাপক। তবে আমাদের অবশ্যই জেনে রাখা উচিত গর্ভাবস্থায় চালতা খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা এমনকি চা খাওয়ার সঠিক নিয়ম।
ভূমিকা
আমাদের এই পোষ্টের আলোচ্য বিষয় চালতা ফল সম্পর্কে। আপনারা নিশ্চয়ই চালতা ফলের নাম শুনেছেন যার ইংরেজি নাম Elephant Apple বলা হয়। চালতা স্বাদে টক হলেও এর আচার খুবই সুস্বাদু। চালতা ফলের গাছটি বেশিরভাগই জঙ্গলে দেখা গেলেও, কিছু নির্দিষ্ট স্থানে চাষ করা হয়। চালতার কল হিসেবে উন্নত আমরা এর ভিতরে ফুলের বৃতি খেয়ে থাকি। তবে এর উপরের অংশ বা আশঁ বা চামড়া খাওয়া যায়।
চালতা গাছে উৎপত্তি স্থল এবং এর আকার
চালতা গাছের জন্ম দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া মহাদেশে। যদিও চালতা বর্তমানে অনেক দেশেও পাওয়া যাচ্ছে। তবে উল্লেখযোগ্যভাবে চালতার উৎপত্তিস্থল হল:
- ভারত
- বাংলাদেশ
- মালয়েশিয়া
- ভিয়েতনাম
- চীন
- শ্রীলংকা
- ইন্দোনেশিয়া
চালতার আকার
চালতার গাছ সাধারণত মাঝারি আকারের।
এই উদ্ভিদটি চিরহরিৎ বৃক্ষ জাতীয়।
চালতার গাছ প্রায় ১৫-১৬ মিটার পর্যন্ত উচ্চতা হয়ে থাকে।
এর গায়ের রং লালচে।
চালতার ফুল সুগন্ধযুক্ত।
প্রতিটি ফুলের ব্যাস ১৫-১৬ সেন্টিমিটার হয়ে থাকে।
চালতার পুষ্টি উপাদানসমূহ
চালতা ফলে প্রচুর পরিমাণে পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ উপাদান পাওয়া যায়। যা স্বাস্থ্যের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ এবং উপকারী। চালতার পুষ্টি উপাদান সমূহ হলো:
- ভিটামিন এ
- ভিটামিন বি কমপ্লেক্স
- ভিটামিন সি
- প্রোটিন
- শর্করা
- ক্যালোরি
- আমিষ
- খনিজ লবণ
- বেটা ক্যারোটিন
- এন্টি মাইক্রোবিয়াল
গর্ভাবস্থায় চালতা খাওয়ার উপকারিতা
চালতা ফল গর্ভাবস্থায় খাওয়ার ফলে রয়েছে অসাধারণ স্বাস্থ্য উপকারিতা। প্রত্যেকের খাওয়া উচিত এই জালদা ফল বিশেষ করে গর্ভাবস্থায়। কেননা চালতা ফলে রয়েছে বিভিন্ন স্বাস্থ্যের জন্য প্রয়োজনীয় পুষ্টির গুনাগুন যা গর্ভাবস্থায় খেলে মা ও শিশুর সঠিক বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তবে এটি মাত্রা অতিরিক্ত খাওয়া উচিত নয়। সুতরাং চালতা খাওয়ার নির্দিষ্ট মাত্রা হওয়া উচিত।
হজমের সমস্যা সমাধান করে
গর্ভাবস্থায় হজম জনিত সমস্যা বেশি দেখা দেয়। ফলে মা ও গর্ভের শিশুর ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে যায় এমনকি অসুস্থ হয়ে পড়ে। তবে গর্ভাবস্থায় চালতা খেলে হজম দড়িত সমস্যা থেকে সমাধান পাওয়া যায়। চালতা টক হওয়ায় হজম এর সমস্যায় কার্যকরী ভূমিকা রাখে।
গর্ভাবস্থায় কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে
গর্ভাবস্থায় বড় এবং অস্বস্তিকর সমস্যা হল কোষ্ঠকাঠিন্য। এর ফলে গর্ভকালীন সময়ে মায়ের বিভিন্ন রোগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। যদি এমন অবস্থায় চালতা খাওয়া যায় তাহলে কোষ্ঠকাঠিন্য থেকে মুক্তি মিলে। এমনকি কোষ্ঠকাঠিন্য থেকে মুক্তি পেতে ওষুধ খাওয়ার প্রয়োজন হয় না। সুতরাং কোষ্ঠকাঠিন্য থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য গর্ভাবস্থায় চালতা খাওয়া উচিত।
চালতা দেহের ব্যথা ও ফলা কমায়
গবেষণায় পাওয়া যায়, চালতাতে রয়েছে অ্যান্টি ইনফ্লেমেটরি যা শরীরের বিষ, ব্যথা ও ফোলা কমাতে সাহায্য করে। আমাদের সকলের জানা গর্ভাবস্থায় শরীরে বেশি ব্যথা থাকে। তবে পর্যাপ্ত পরিমাণে চালতা খেলে গর্ভাবস্থায় শরীরের ব্যথা কমে যায়।
![]() |
গর্ভাবস্থায় চালতা খাওয়ার উপকারিতা |
ভিটামিন সি এর চাহিদা পূরণ করে
গর্ভাবস্থায় মায়ের ভিটামিন সি এর অভাব দেখা দেয়। এর ফলে শরীর ফ্যাকাসে, চামড়া উসকো শুষ্ক, এমনকি শরীরের চামড়া উঠে যায়। তবে নিয়মিত পরিমাণ অনুযায়ী চালতা খেলে ভিটামিন সিএ চাহিদা পূরণ হয় এবং উক্ত সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। কারণ চালতায় ভিটামিন সি পাওয়া যায়।
দৃষ্টিশক্তি বৃদ্ধি করে
চালতাতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন এ রয়েছে। যা গর্ভাবস্থায় গ্রহণ করার ফলে মা ও গর্ভের শিশুর রাতকানা রোগ হওয়ার সম্ভাবনা কমে যায়। এর ফলে দৃষ্টিশক্তি বৃদ্ধি পায়। এমনকি চালতা ভিটামিন এ এর চাহিদা পূরণ করে।
গর্ভাবস্থায় চালতা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে
গর্ভকালীন সময়ে গর্ভবতী মায়ের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা অনেকটা কমে যায়। তবে এমন সময় নিয়মিত চালতা খেলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করা সম্ভব। সুতরাং গর্ভকালীন সময়ে ক্ষমতার বৃদ্ধি করতে পরিমাণ মতো চালতা খাওয়া উত্তম।
রক্তচাপের সমস্যার সমাধান করে
চালতাতে আছে পটাশিয়াম ও অন্যান্য স্বাস্থ্য প্রয়োজনীয় খনিজ উপাদান। গর্ভাবস্থায় খেলে রক্তচাপ জনিত সমস্যা দূর করে।
স্নায়ু ও গর্ভের শিশুর মস্তিষ্কের বিকাশ ঘটায়
গর্ভাবস্থায় নিয়মিত চালতা গ্রহণ করলে স্নায়ুর কার্যকারিতা বৃদ্ধি করে এবং গর্ভের থাকা শিশুর মস্তিষ্কের বিকাশ ঘটাতে সাহায্য করে। কারণ চালতাতে রয়েছে ভিটামিন বি যা স্নেহ ও মস্তিষ্ক বিকাশে সহায়তা করে।
গর্ভাবস্থায় চালতা খাওয়ার অপকারিতা
গর্ভাবস্থায় চালতা খাওয়ার উপকারিতা থাকলেও কিছু অসাবধানতার কারণে অপকারিতা রয়েছে। সুতরাং গর্ভকালীন সময়ে চালতা খাওয়ার পূর্বে অপকারিতা সম্পর্কে জেনে খাওয়া উত্তম। নিচে গর্ভাবস্থায় চালতা খাওয়ার অপকারিতা দেয়া হলো:
- চালতা এলার্জি বৃদ্ধি করে। সুতরাং যাদের অ্যালার্জি আছে তাদের চালতা খাওয়া থেকে বিরত থাকা উচিত।
- প্রচুর পরিমাণে চালতা খেলে গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা দেখা দেয়। সুতরাং চালতার নির্দিষ্ট পরিমাণে খাওয়া উচিত।
- অনেক সময় চালতা অতিরিক্ত পরিমাণে গ্রহণ করলে গর্ভপাতের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। সুতরাং চালতা অতিরিক্ত খাওয়া সঠিক নয়।
- গর্ভকালীন সময়ে চালতার অতিরিক্ত ব্যবহারে যোনিপথে রক্তপাত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
সর্বোপরি গর্ভাবস্থায় অতিরিক্ত, অপর্যাপ্ত, এবং অনিয়মিত চালতা খাওয়া এবং ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকা উত্তম। ফলে চালতার অপকারিতা থেকে উপকারিতা পাওয়া সম্ভব।
গর্ভাবস্থায় চালতা খাওয়ার নিয়ম
গর্ভাবস্থায় চালতা খাওয়ার কিছু সঠিক নিয়ম মেনে খাওয়া উত্তম। গর্ভকালীন সময়ে কাল এর আচার খাওয়া সঠিক নয়। কারণ এর আচার দীর্ঘদিন ধরে সংরক্ষণ করা হয় এবং ব্যবহার করা উপাদান গুলো এর চালতার পুষ্টি উপাদান নষ্ট করে ফেলে। যা গর্ভাবস্থায় খেলে বিভিন্ন ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
একজন গর্ভবতী মায়ের চালতা কাঁচা অবস্থায় খাওয়া সবচেয়ে উত্তম। চালতার আঁশ খাওয়া যায়। তবে এটিকে সুস্বাদু করতে কিছু প্রয়োজনীয় মসলা যুক্ত করতে পারেন।
তবে মরিচের গুড়া, কাঁচা লবণ বা বাজারের মসলা খাওয়া যায় যাবে না। আবার যদি লবন খেতে হলে হিমালিয়ান লবণ খাওয়া যেতে পারে তবে পরিমানে কম। এছাড়াও মরিচের পরিবর্তে কাঁচা লঙ্কা পরিমিত পরিমাণে খেতে পারেন।
চালতার উপকারিতা ও পুষ্টিগুণ
- চালতা বুকে ব্যথা, জ্বর, ঠান্ডা, সর্দি, কাশি, বুকের কফ জমে থাকা, ঠান্ডা জনিত সমস্যা ইত্যাদি রোগের উপশমও করতে কার্যকরী ভূমিকা রাখে। কারণ টক হয় বেশ উপকারে। তবে উপরোক্ত রোগ থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য চালতার রস করে খেলে বেশি উপকার পাওয়া যায়।
- চালতাতে ভিটামিন সি বেশি থাকায় লিভার, স্কার্ভি রোগ থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।
- ভিটামিন এ এর অভাবে রাতকানা রোগ হয়ে থাকে। যা চালতাতে পাওয়া যায়। সুতরাং চালতা খেলে ভিটামিন এ এর ঘাটতি পূরণ করে এবং রাতকানা রোগ থেকে ঝুঁকি কমায়।
- চালতার পুষ্টিগুণ গ্রহণ করলে হার্ট এর বিভিন্ন সমস্যার সমাধান মিলে।
- চালতা কিডনিজনিত বিভিন্ন সমস্যার সমাধান করে থাকে।
- চালতা খাওয়ার ফলে হাড় ও নক গঠনে কার্যকরী ভূমিকা রাখে।
- এটি মুখের ঘা দূর করে এমনকি চামড়া ওঠা ভালো করতে সাহায্য করে। কারণ এতে ভিটামিন সি থাকে।
- নিয়মিত চালতা খেলে কোলেস্টেরল ও ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে থাকে।
- চালতা ডায়রিয়া এবং বদহজম ভালো করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
উপসংহার
আজকের পোষ্টের মূল আলোচ্য বিষয় চালতা সম্পর্কে। এ প্রশ্নের মাধ্যমে জানানো হয়েছে গর্ভাবস্থায় চালতা খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা, চালতা খাওয়ার সঠিক নিয়ম, ও এর পোস্টে গুনাগুন সম্পর্কে বিস্তারিত। উক্ত বিষয় সম্পর্কে জানতে পেরে উপকৃত হয়েছেন। এছাড়াও আপনাদের কোন বিষয় সম্পর্কে জানার থাকলে আমাদের কমেন্ট করে জানাতে ভুলবেন না।
এই ওয়েবসাইটের নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url